কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬ এ ১২:০৫ PM

পরিচিতি

কন্টেন্ট: পাতা

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সার্বিক কার্যক্রম

নৌপরিবহন অধিদপ্তর

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নৌপরিবহন অধিদপ্তর একটি রেগুলেটরি সংস্থা। সংস্থাটি ১৯৭৬ সালে স্থাপিত হয়। মহাপরিচালক অধিদপ্তরের প্রধান হিসেবে কার্য পরিচালনা করেন। সংস্থাটি মেরিটাইম প্রশাসন হিসাবে অভ্যন্তরীণ নৌযান এবং সমুদ্রগামী জাহাজের নিরাপত্তা ও পরিবেশ দূষণ রোধে কার্যক্রম গ্রহণ ছাড়াও জাহাজে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও সনদায়ন এবং নৌ-বাণিজ্যের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে থাকে। Inland Shipping Ordinance (ISO) 1976, Merchant Shipping Ordiance (MSO) 1983, বাংলাদেশ পতাকাবাহী জাহাজ (স্বার্থরক্ষা) আইন, ২০১৯ ও বাংলদেশ বাতিঘর আইন, ২০২০ এবং এর আওতায় প্রণীত বিধিমালা এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম কনভেনশন বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই অধিদপ্তর কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। ১৯৭৬ সালে অধিদপ্তরের গঠন, এবং ১৯৮৩ সালে এনাম কমিটির রিপোর্ট এবং পরবর্তী সরকারী আদেশ অনুযায়ী নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে নিম্নলিখিত অফিসসমূহ রয়েছে।

১। নিয়ন্ত্রণাধীন অফিস সমুহ :-

ক. নৌ-বাণিজ্য দপ্তর, চট্রগ্রাম;

খ. সরকারী সমুদ্র পরিবহন অফিস, চট্রগ্রাম;

গ. অভ্যন্তরীণ নৌযান জরিপ ও নিবন্ধীকরণ অফিস, ঢাকা/নারায়ণগঞ্জ/বরিশাল/খুলনা;

ঘ. অভ্যন্তরীণ নৌযান পরিদর্শনালয়, প্রধান কার্যালয়, আগারগাঁও/সদরঘাট/নারায়ণগঞ্জ/চাঁদপুর/পটুয়াখালী/ বরিশাল/খুলনা/চট্টগ্রাম;

ঙ. আঞ্চলিক নৌযান সার্ভে এন্ড রেজিষ্ট্রেশন/পরিদর্শন অফিস, ভৈরব/কক্সবাজার/আরিচা/ভোলা/চাঁদপুর/চট্টগ্রাম/চামড়া বন্দর/বাঘাবাড়ি, সিরাজগঞ্জ (রাজশাহী অঞ্চল)।

২। অধিদপ্তরের বিস্তারিত কার্যাবলি:

২.১। জাতীয় কার্যাবলি:-

১. অভ্যন্তরীণ জাহাজের কর্মকর্তা/নাবিকদের যোগ্যতা সনদ পরীক্ষা গ্রহণ/পরিচালনা; ২০২৫ সনে ৩,৯২৮ জন ইনল্যান্ড মাস্টার এবং ২,৯৫৫ জন ইনল্যান্ড ড্রাইভার মোট ৬,৮৮৩ জনের পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে;

২. অভ্যন্তরীণ নৌযানের সার্ভে ও রেজিষ্ট্রেশন করা; ২০২৫ সনে মোট ১৫,৩৫৭টি ইনল্যান্ড নৌযান সার্ভে করা হয়েছে এবং ১,৭৭১টি অভ্যন্তরীণ নৌযান রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে;

৩. অভ্যন্তরীণ নৌযানের নকশা ও ডিজাইন অনুমোদন; ২০২৫ সনে বিভিন্ন ধরনের ১,০৯১টি জাহাজের নকশা অনুমোদন দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৮২টি মালবাহী, ৩০টি তৈলবাহী, ২৪টি যাত্রীবাহী, টুরিস্ট জাহাজ ৫৮টি, বালিবাহী ৬৯৮টি, পণ্যবাহী ৮০টি, টাগবোট ১৫টি এবং অন্যান্য ১০৪টি;

৪. আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মেরিন কোর্ট-এ বিচার কার্য পরিচালনা; ২০২২ সনে মেরিন কোর্টে ২০৬৮টি মামলা দায়ের করা হয়; এই সময়ে পূর্বের দায়ের করা মামলা সহ মোট ৮৯৫টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়;

৫. বে-ক্রসিং অনুমতি প্রদান; ২০২৫ সনে ১,৯২০টি বে-ক্রসিং অনুমতি প্রদান করা হয়;

৬. নৌ-দুর্ঘটনা তদন্ত করা; ২০২৫ সনে ৫২টি নৌ দুর্ঘটনার তদন্ত করা হয়েছে;

৭. ভ্রাম্যমান নৌ-আদালত পরিচালনা;

৮. ক্লাসিফিকেশন সোসাইটিসমূহের কার্যক্রম মনিটরিং করা;

৯. সকল ধরনের নাবিকদের চক্ষু পরীক্ষা গ্রহণ;

১০. অভ্যন্তরীণ শিপিং অধ্যাদেশের আওতায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ জাহাজসমূহ রেজিষ্ট্রি ও সার্ভেকরণ;

১১. অভ্যন্তরীণ নৌযান পরিদর্শন;

১২. আইন অমান্যকারী নৌযান/মালিক/মাষ্টারের বিরুদ্ধে মামলা প্রদান;

১৩. ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় সহায়তা করা।

২.২। আন্তর্জাতিক কার্যাবলি:-

১. বাংলাদেশের বন্দরে আগত বিদেশি জাহাজসমূহকে পোর্ট ষ্টেট কন্ট্রোলের আওতায় পরিদর্শন; ২০২২ সনে ১০৬১টি জাহাজ পরিদর্শন করা হয়েছে;

২. বাংলাদেশের বন্দরে আগত সকল নৌযানের ফিটনেস যাচাইকরতঃ অনাপত্তি সনদ জারিকরণ;

৩. সমুদ্র বন্দরে জাহাজের আগমন-নির্গমন অনুমতি প্রদান; ২০২২ সনে চট্টগ্রাম বন্দরে ৪৭৩১টি আগমন এবং ৪৬৩২টি জাহাজের নির্গমন/বহির্গমন অনুমতি প্রদান করা হয়েছে;

৪. সমুদ্রগামী জাহাজের চার্টারিং অনুমতি- ২০২৫ সনে ৪০টি চার্টারিং পারমিশন প্রদান করা হয়;

৫. বাংলাদেশের সমুদ্রগামী ও উপকুলীয় জাহাজ এবং ফিশিং ট্রলার, ফিশিং বোটসমুহের রেজিষ্ট্রেশন, উহাদের বাৎসরিক সার্ভে কার্যক্রম পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট নৌযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সনদ জারিকরণ; ২০২২ সনে ২৩টি সমুদ্রগামী জাহাজ বাংলাদেশ ফ্ল্যাগের আওতায় রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে;

৬. বাংলাদেশী জাহাজের অনুকূলে ভয়েজ লাইসেন্স জারিকরণের লক্ষ্যে শিপিং অথরিটি হিসেবে দায়িত্ব পালন ;

৭. বাংলাদেশ পতাকাবাহী জাহাজ (সুরক্ষা) আইন,২০১৯ এর বাস্তবায়ন এবং উহার আওতায় প্রেসক্রাইবড অথরিটি এর দায়িত্ব পালন;

৮. নিরপেক্ষ মেরিন প্রফেশনাল সার্ভেয়ারদের লাইসেন্স জারি; ২০২৫ সালে ৬৬টি শিপ মেরিন প্রফেশনাল সার্ভেয়ারদের লাইসেন্স জারি করা হয়;

৯. কুতুবদিয়া, কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন বাতিঘর পরিচালনার মাধ্যমে নৌযানসমূহকে দিকনির্দেশনা প্রদান ও রাজস্ব আদায়;

১০. আইএসপিএস কোড বাস্তবায়নে কার্যক্রম গ্রহণ;

১১. বাংলাদেশের আওতাভুক্ত অঞ্চলে বিপদগ্রস্থ জাহাজ উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন করা;

১২. মেরিটাইম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট মনিটরিং করা;

১৩. বাংলাদেশ সমুদ্রসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে জলদস্যুতা ও অবৈধ কার্যক্রম রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

১৪. রিসিভার অব রেকস হিসেবে দায়িত্ব পালন;

১৫. বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় সংঘটিত নৌযান দুর্ঘটনার তদন্ত কার্য পরিচালনা;

১৬. বাংলাদেশ কর্তৃক স্বীকৃত নৌ-সম্পর্কীয় আন্তর্জাতিক কনভেনশনসমূহ বাস্তবায়ন; ২০২২ সন পর্যন্ত ২৫টি আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুস্বাক্ষর করা হয়েছে;

১৭. আইএলও বিধান মোতাবেক বাংলাদেশি নাবিকদের বরাবর নাবিক পরিচয়পত্র জারি; এ কার্যক্রম জানুয়ারী’১০-এ শুরুর পর হতে ডিসেম্বর’২০২৫ পর্যন্ত ১৯৮০৫টি পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়েছে; ২০২৫ সনে মোট ১৫০১টি নতুন, ৭৮৩টি নবায়ন এবং হারানো/প্রতিস্থাপনকৃত ১০৫টিসহ সর্ব মোট ২৩৮৯টি জারী করা হয়;

১৮.সমুদ্রগামী জাহাজের নবীন নাবিকদের প্রশিক্ষণ প্রদান; ২০২৫ সনে ৪৬৪জন নবীন এবং ১৭০৪জন পুরাতন নাবিকসহ মোট ২১৬৮জন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে;

১৯. সমুদ্রগামী জাহাজের কর্মকর্তা/নাবিকদের যোগ্যতা সনদ পরীক্ষা গ্রহণ/পরিচালনা; ২০২৫ সনে সমুদ্রগামী জাহাজের ১৯০৭জন ডেক অফিসার ও ১১২৫জন ইঞ্জিনিয়ারিং অফিসার, মোট ৩০৩২জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে;

২০. ম্যানিং এজেন্টদের লাইসেন্স প্রদান; ২০২৫ সনে নতুন ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ম্যানিং লাইসেন্স প্রদান করা হয়; বর্তমানে মোট লাইসেন্সপ্রাপ্ত ম্যানিং এজেন্টের সংখ্য ৮৫টি, তার মধ্যে ৮০টি এজেন্ট ACTIVE আছে;

২১. দেশি/বিদেশি জাহাজে বাংলাদেশি নাবিক অধিক সংখ্যক নিয়োগ করে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহযোগিতা করা; ২০২৫ সনে বিদেশগামী দেশি/ বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে অফিসার ৬৪৭৬জন এবং নাবিক ৪৫৮৮জন সর্বমোট ১১০৬৪জন নাবিক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে বিদেশে গমন করেছে;

২২. এসটিসিডব্লিউ কনভেনশন ও ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী কর্মকর্তা, ক্যাডেট ও রেটিংদের প্রশিক্ষণ মনিটরিং করা;

২৩. আইএমও, আইএলও, আংটাড (UNCTAD), D-8 এবং শিপিং সংক্রান্ত অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা;

২৪. অন্যান্য মেরিটাইম দেশের সাথে সম্পাদিত শিপিং চুক্তি বাস্তবায়ন;

২৫. এসটিসিডব্লিউ’৯৫ অনুযায়ী ট্রেনিং ও সনদায়ন বিষয়ে আইএমও সদস্য দেশসমূহের সাথে সমঝতা স্বাক্ষরের ব্যবস্থা গ্রহণ;

২৬. বিশ্ব নৌ-দিবস উদযাপন;

২৭. বিদেশে বিভিন্ন জাহাজে নাবিক হিসাবে কর্মরতদের মাঝে নাবিক পরিচয়পত্র জারিকরণ;

২৮. রিক্যাপ (ReCAAP) এর ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন;

২৯. বাংলাদেশ পতাকাবাহী জাহাজের ব্যবসায়িক স্বার্থ সংরক্ষণ;

৩০. শিপিং বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ প্রদান;

৩১. শিপিং বিষয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন;

৩২. নৌ পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ;

৩৩. জীবন রক্ষাকারী এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রাদির সার্ভিসিং সংস্থা পরিদর্শন ও অনুমোদন প্রদান ;

৩৪. বাণিজ্যিক জাহাজের অফিসারদের চক্ষু পরীক্ষা গ্রহণ; ২০১৮ সনে প্রায় ২২৮৫জনের চক্ষু পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়;

৩৫. সমুদ্রগামী জাহাজের কর্মরত নাবিকদের আপডেটিং প্রশিক্ষণ প্রদান;

৩৬. বাংলাদেশ নৌ-বাণিজ্য অধ্যাদেশ-৮৩ এবং উহার আওতায় প্রণীত বিধিমালা মোতাবেক সমুদ্রগামী জাহাজে নাবিক নিয়োগ ও নিষ্কৃৃতি তদারকি করা ;

৩৭. সমুদ্রগামী জাহাজে নিয়োগ, নিষ্কৃতি এবং বেতন-ভাতা পাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশি নাবিকদের স্বার্থ রক্ষা করা;

৩৮. বাংলাদেশ নাবিক নিয়োগ বিধিমালা-২০০১ অনুসারে দেশি/বিদেশি জাহাজে মালিকদের চাহিদা অনুযায়ী নাবিক নিয়োগ করা ও বাংলাদেশি নাবিক নিয়োগ বৃদ্ধি করা;

৩৯. নাবিক তহবিলে জমাকৃত ডেফার্ড ক্রেডিট এবং গ্রেচুইটির অর্থের পরিচালনা ও সংরক্ষণ করা;

৪০. বিধি মোতাবেক চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর, নবায়ন, চুক্তিপত্র সরবরাহ, ভয়েজ এন্ডোর্জমেন্ট, জাহাজের আগমন/বহির্গমন ছাড়পত্র প্রদান, ধারাবাহিক নিষ্কৃতি সনদ, পরিচয়পত্র, রোষ্টার বুক, ইত্যাদি ইস্যু করা, কলকার্ড ইস্যু করা এবং বিদেশি নাবিকদের প্রত্যাবর্তনে সহযোগিতা করা ও বিভিন্ন ধরনের ফরম বিক্রয় ও রাজস্ব আদায়;

৪১. মেরিটাইম বোর্ড এগ্রিমেন্ট/আই.এল.ও কনভেনশন অনুযায়ী জাহাজ মালিকদের নিকট হতে অর্থ আদায়করণ পূর্বক মৃত/অসুস্থ/ক্ষতিগ্রস্থ নাবিকদের কিংবা তাদের উত্তরাধিকারীগণকে অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা করা;

৪২. বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে দেশি/বিদেশি জাহাজ পরিদর্শন করা;

৪৩. নাবিক নিয়োগ/কর্মসংস্থান সৃষ্টি/বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সময় সময় সরকারকে পরামর্শ দেওয়া;

৪৪. নাবিক হোষ্টেলের মাধ্যমে নাবিক ও নৌ-কর্মকর্তাদের থাকা, খাওয়া, চিত্তবিনোদন ও চিকিৎসা ইত্যাদি সুবিধা প্রদান;

৪৫. জাহাজে কর্মরত নাবিকদের থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা, পানীয় ও অন্যান্য সুবিধাদি দেখাশুনার নিমিত্তে জাহাজ পরিদর্শন করে তাদের ন্যায়ানুগ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নাবিকদের ন্যায্য পাওনা, ক্ষতিপূরণ, বকেয়া বেতন ও অন্যান্য স্বার্থ সংশ্লি­ষ্ট বিষয়ে নাবিকদের আইনানুগ প্রাপ্তি আদায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ;

৪৬. নাবিক সন্তান-সন্ততিদের শিক্ষা সহায়তা প্রদানকল্পে (শিক্ষা অনুদান) সীম্যান্স এডুকেশন ট্রাষ্ট ফান্ড পরিচালনা করা এবং নাবিক কল্যাণ সম্পর্কিত বিভিন্ন স্কীম প্রণয়ন;

৪৭. জাহাজে চাকুরীকালে নাবিক পরিবারের প্রতি কোন প্রকার অত্যাচার, নির্যাতন কিংবা সম্পত্তি সংক্রান্ত কোন বিরোধ ও অন্যান্য অসুবিধার ক্ষেত্রে (অভিযোগ প্রাপ্তি স্বাপেক্ষে) স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে নাবিক পরিবারকে সহযোগিতা প্রদান;

৪৮. নাবিকদের বিভিন্ন সনদ নবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা এবং চট্টগ্রামস্থ ব্যক্তিমালিকানাধীন বে-সরকারী মেরিটাইম ট্রেনিং ইন্সটিটিউটসমূহে পরিচালিত বিভিন্ন ট্রেনিং কোর্সসমূহের মান উন্নয়ন কল্পে মনিটরিং;

৪৯. সীম্যান্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড, সীম্যান্স ওয়েলফেয়ার ফান্ড কমিটি, সীম্যান্স এমপ্ল­য়মেন্ট কমিটি, ম্যানিং এজেন্ট লাইসেন্স বাছাই কমিটি ইত্যাদিতে সদস্য/সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করা এবং আই.এম.ও, আই.এল.ও কনভেনশন, রিকমন্ডেশন ইত্যাদি বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট মতামত ও সুপারিশ প্রদান;

৩। নিয়ন্ত্রণাধীন অফিসসমূহের সংক্ষিপ্ত কার্যক্রম -

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে যে সকল নিয়ন্ত্রণাধীন অফিস রয়েছে তার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিম্নে দেয়া হলোঃ

৩.১। নৌ-বাণিজ্য দপ্তর

এই অফিসের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে এবং শাখা অফিস খুলনায় অবস্থিত। প্রিন্সিপাল অফিসার অফিসের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। নৌ-বাণিজ্য দপ্তর মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এর আওতায় সমুদ্রগামী ও উপকূলীয় জাহাজের সার্ভে ও রেজিষ্ট্রেশন, জাহাজ চলাচলের উপযুক্ততার সনদসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা সনদপত্র জারি করে। কক্সবাজার, কুতুবদিয়া ও সেন্টমার্টিন ০৩ (তিন)টি বাতিঘর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ এই অফিস হতে করা হয়ে থাকে। বাতিঘর সুবিধা প্রদান করায় বাংলাদেশ বন্দরে আগমনকারী বিদেশি জাহাজ হতে বাতিকর বাবদ বৎসরে প্রায় ছয় কোটি টাকা আয় হয়। ডিসেম্বর’২১ পর্যন্ত বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর আওতায় রেজিষ্ট্রিকৃত জাহাজ সংখ্যা নিম্নরূপ ঃ-

নৌ-যানের ধরন

সংখ্যা

সমুদ্রগামী জাহাজ

৭৭

কন্টেইনার জাহাজ

২৪

কোষ্টার

১৬৫

যাত্রীবাহী জাহাজ

২৬

ট্যাংকার

২৪০

মাছ ধরার নৌকা

১১,৯২৪

মাছ ধরার ট্রলার

২৬৪

মালামাল পরিবহন নৌকা

২,৯২৪

অন্যান্য

৩৯

মোট

১৫,৬৮৩

৩.২। সরকারী সমুদ্র পরিবহন ( শিপিং) অফিস, চট্টগ্রাম:

১৯৪৮ সনে এই অফিস প্রতিষ্ঠিত হয়। শিপিং মাষ্টার দাপ্তরিক প্রধান হিসাবে অফিস পরিচালনা করেন। নাবিকদের সমুদ্রগামী জাহাজে নিয়োগ, নিষ্কৃতি এবং নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এ অফিসের প্রধান দায়িত্ব। তাছাড়া অফিসটি নাবিক ও জাহাজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনসহ নাবিক কল্যাণে সরকারি বিভিন্ন নির্দেশ মোতাবেক দায়িত্ব পালন করে থাকে। নাবিক নিয়োগের জন্য রোষ্টার প্রথা চালু আছে। বর্তমানে, ১৩,৭২৬জন নৌ কর্মকর্তা এবং ৮,২৯৫জন রেজিষ্ট্রার্ড নাবিক রয়েছে। তন্মধ্যে, ২,৪২৪ জন দেশি জাহাজে এবং ৬,৬৭৬ জন বিদেশি জাহাজে চাকুরীরত আছে। নৌ কর্মকর্তা এবং নাবিকদের বেতন বাবদ দেশে বৎসরে প্রায় ৪,৪৫১ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়।

৩.৩। অভ্যন্তরীণ নৌযান জরিপ ও নিবন্ধন অফিস, ( ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল ও খুলনা ):

অভ্যন্তরীণ নৌ-অধ্যাদেশ ১৯৭৬ এর আওতায় অভ্যন্তরীণ নৌযান জরিপ ও নিবন্ধিকরণের জন্য ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, খুলনা, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ), চাঁদপুর ও চট্টগ্রামে এই অফিস রয়েছে। প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক এ অফিসের প্রধান কর্মকর্তা। নৌযানের কারিগরী মান নিয়ন্ত্রণ, জীবনরক্ষাকারী ও অগ্নিনির্বাপনকারী সরঞ্জাম পরীক্ষাকরণ ইত্যাদি এ সকল অফিসের মূখ্য ভুমিকা। ডিসেম্বর’২৫ পর্যন্ত এই সকল অফিসে রেজিষ্ট্রিকৃত নৌযান সংখ্যা নিম্নরূপ:-

নৌ-যানের ধরন

সংখ্যা

যাত্রীবাহী নৌযান (লঞ্চ)

৮৫৪

যাত্রীবাহী বোট ৭৮৪

মালবাহী নৌযান

৩৮৫৮

ফেরী

৫০

ট্যাংকার

৪৩৮

ডাম্ব বার্জ

৬৭৬

স্পীড বোট

১৫১৭

ড্রেজার২৪০৯

বালুবাহী বোট

৮৪১৫

টাগবোট, ওয়ার্কবোট ও অন্যান্য

৩২৯৭

মোট

২২,২৯৮

৩.৪। অভ্যন্তরীণ নৌযান পরিদর্শনালয় (ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, খুলনা, বরিশাল,পটুয়াখালী ও চট্টগ্রাম):

অভ্যন্তরীণ নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নৌ পথে চলাচলকারী নৌযানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে কাগজপত্র সরজমিনে পরীক্ষা করা এবং এতদসংক্রান্ত বিধি লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে মেরিন কোর্টে মামলা দায়ের করা, সংশ্লিষ্ট এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সহায়তা প্রদান পরিদর্শনালয়ের মূখ্য দায়িত্ব। । পরিদর্শনালয়ের আওতায় পরিদর্শকগণ দেশের বিভিন্ন নদী বন্দরে এই দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত আছেন। মুখ্য পরিদর্শক পরিদর্শনালয়ের প্রধান হিসাবে কাজ করেন।

৪। অধিদপ্তরের বিগত বৎসরের আর্থিক চিত্র

বিভিন্ন ফী ও কোর্ট আরোপিত জরিমানা হতে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় হয়ে থাকে। খাতওয়ারী ২০২০-২০২১ এবং ২০২১-২০২২ ইং সালে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ও ইহার নিয়ন্ত্রণাধীন অফিসসমূহের খাতভিত্তিক আয় নিম্নরূপ (হাজার টাকায়)-

৪.১। খাতভিত্তিক আয়-

খাত

২০২০-২০২১

২০২১-২০২২

নৌযান সার্ভে

নৌযান রেজিষ্ট্রেশন

বিভিন্ন পরীক্ষার ফী

সরকারি যানবাহন ব্যবহার ফী

মেরিন ও মোবাইল কোর্ট বাবদ প্রাপ্তি

বাতিকর

অন্যান্য

৫,৩১,৫৩

৮৮,০৩

২,৫০,৫৩

২২

১,৬৫,৪৪

১৯,০৩,২৯

১০,২৩,৩৩

৫,৯০,০২

১,০১,৭৫

২,৯৪,১২

১৬

১,৮৫,২৪

২০,৯৪,৬১

১৭,২০,৯৮

মোট

৩৯,৬২,৪১

৪৯,৯৪,১৩

৪.২। নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং ইহার নিয়ন্ত্রণাধীন অফিসসমূহের গত ০৩ বছরের আয়-ব্যয় বিবরণী (হাজার টাকায়):-

অর্থবছর

মোট প্রকৃত আয়

মোট প্রকৃত ব্যয়

২০১৯-২০২০

২০২০-২০২১

২০২১-২০২২

৩৮,১১,৭৪

৩৯,৬২,৪১

৪৯,৯৪,১৩

১৫,৬৫,৭৫

১৫,০১,৩৫

১৯,৬০,৪৭

৫। অধিদপ্তর ও নিয়ন্ত্রণাধীন অফিসসমূহের জনবল :-

পদ

প্রথম শ্রেনী

দ্বিতীয় শ্রেনী

তৃতীয় শ্রেনী

চতুর্থ শ্রেনী

মোট

অনুমোদিত

৭৭

৬৭

১৫৮

৭৯

৪০৮

কর্মরত

৩৩

২৪

৮৬

৫৪

২২৪

৬। অধিদপ্তর সম্পর্কিত বিবিধ বিষয়

জাতীয় আইন ও বিধি

দুষণমুক্ত নৌ পরিবেশ ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিতকরণের জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তর নিম্নলিখিত আইন, আইনের অধীনে প্রণীত বিধি এবং আইন দ্বারা সমর্থিত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের আলোকে কার্যাবলি পরিচালিত করে থাকেঃ

  • বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ ।
  • বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন অধ্যাদেশ, ১৯৭৬।
  • বাংলাদেশ পতাকাবাহী জাহাজ (স্বার্থরক্ষা), আইন, ২০১৯।
  • বাংলদেশ বাতিঘর আইন, ২০২০।
  • মেরিটাইম জোন এ্যাক্ট, ১৯৭৪।

বাংলাদেশের মেরিটাইম প্রশিক্ষণ ও কম্পিটেন্সী সনদের আন্তর্জাতিক সমর্থন

১৯৯০ সাল থেকে নৌপরিবহন অধিদপ্তর সমুদ্রগামী জাহাজের অফিসার ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের কম্পিটেন্সী পরীক্ষা চালু করে। ১৯৯৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থা (আই এম ও) বাংলাদেশে গৃহীত কম্পিটেন্সী পরীক্ষা পদ্ধতি স্বীকৃতি প্রদান করায় সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরে পরিচালিত কম্পিটেন্সী পরীক্ষা বিশ্বব্যাপী অধিক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। সে কারণে বাংলাদেশি অফিসার ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ারগণ অধিকহারে বিদেশি জাহাজে নিয়োগ লাভের সুযোগ পাচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য অর্জিত সাফল্য

১. মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য বেসরকারি মেরিটাইম ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা এবং এগুলো পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে;

২. আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থা International Maritime Organization (IMO)’তে বাংলাদেশ B Category সদস্য;

৩. বাংলাদেশের নাবিকদের বিদেশি জাহাজে চাকুরী নিশ্চিত করার জন্য আইএমও কনভেনশনের আলোকে এ যাবৎকাল ২৮ টি দেশের সাথে MOU স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে বিগত নয় বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ঘানা, ইটালী, মালয়েশিয়া ও এন্টিগুয়া এন্ড বারমোডার সাথে Certificate of Competency সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে;

৪. নাবিকদের বিদেশি জাহাজে যোগদান সহজ করার উদ্দেশ্যে আইএলও কনভেনশনের আলোকে সীফেয়ারারর্স মেশিন রিডেবল আইডি ডকুমেন্ট জারির কার্যক্রম চালু করা হয়েছে;

৫. মেরিটাইম লেবার কনভেনশন অণুসমর্থন করা হয়েছে এবং বাস্তবায়ন করা হচ্ছে;

৬. মেরিটাইম লেবার কনভেনশনের চাহিদা অনুযায়ী নাবিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পাদনের প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে ;

৭. IMO’র বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশি সমুদ্রগামী জাহাজের জন্য Long Range Identification and Tracking System (LRIT) বাস্তবায়ন করা হয়েছে;

৮. অভ্যন্তরীণ জাহাজে রিভারসিবল গিয়ার সংযোজন করে দুর্ঘটনা হ্রাস করা হয়েছে;

৯. মানসম্মত নৌযান নির্মাণ ও মেরামতের জন্য ডকইর্য়াড নীতিমালা প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে;

১০. সনদ বর্তমান সময়োপযোগী করে আধুনিকায়ন করা হয়েছে ;

১১. বাংলাদেশ নৌ-বাণিজ্যিক জাহাজ অফিসার ও নাবিক প্রশিক্ষণ, সনদায়ন, নিয়োগ, কর্মঘন্টা এবং ওয়ার্চকিপিং বিধিমালা ২০১১ জারী করা হয়েছে;

১২. মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এর আওতায় লেভী সংগ্রহ বিধিমালা,২০১৩ জারী করা হয়েছে;

১৩. নাবিকদের সিডিসি’র ডাটাবেজ তৈরি করে অনলাইন যাচাই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে;

১৪. নাবিক ও প্রবাসী শ্রমিক কল্যাণ পরিদপ্তর, চট্টগ্রামে নাবিক ড্রপিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে;

১৫. নৌপরিবহন অধিদপ্তর কর্তৃক সমুদ্রগামী ও অভ্যন্তরীণ জাহাজের নাবিকদের সার্টিফিকেট অব কম্পিটেন্সি (CoC), সার্টিফিকেট অব প্রফিসিয়েনন্সী (CoP) তৈরির কাজ সম্পাদনের জন্য মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে;

১৬. মেরিটাইম লেবার কনভেনশন-২০০৬ (MLC-2006) এবং সীফেয়ারারর্স আইডেনটিটি ডকুমেন্ট (এসআইডি) কনভেনশন (সংশোধিত,২০০৩) অণুসমর্থন করা হয়েছে;

১৭. আইএমও’র আওতায় প্রতিষ্ঠিত International Mobile Satellite Organization (IMSO) এর মহাপরিচালক পদে বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছে। ইতোপূর্বে উক্ত পদে ইউরোপের প্রতিনিধি নিয়োজিত ছিলেন;

১৮. বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন সহজ ও পরিবহন সময় সংক্ষিপ্ত করার জন্য এ দু’দেশের মধ্যে কোস্টাল শিপিং চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে;

১৯. আইনসমূহ সংশোধন এবং সকলের সহজ বোধগম্য করার জন্য বাংলা ভাষায় প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে,। ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ নৌ অধ্যাদেশ এবং বাতিঘর আইন সংশোধন পূর্বক বাংলায় প্রণয়ন করা হয়েছে।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন